টানা দুই দিন মনোনয়ন পত্র তোলা ও জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রকার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন ব্লক। কোথাও নমিনেশন তুলতে বাধা সহ প্রার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসক দলের বিরুদ্ধে। যার কারণে বিরোধী দলগুলি পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারেননি বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। আর সেই কারণেই গেরুয়া পতাকা ও লাল পতাকা এক সাথে কড়া পুলিশি নজরদারিতে বিনা বাধায় উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র তোলা ও জমা করল শুক্রবার। এদিন আদিবাসি বিজেপি কর্মী সেনাদের সাথে নিয়ে আনুমানিক দশ হাজার কর্মী সমর্থককে নিয়ে কালিয়াগঞ্জ নাট্যমন্দির প্রাঙ্গন থেকে এক মিছিল এসে পৌঁছায় কালিয়াগঞ্জ ব্লক অফিসে।
অপর দিকে সিপিএমের দলীয় কার্যলয় থেকে এমনই এক মিছিল বের হয়। পরে কালিয়াগঞ্জ ব্লক অফিস প্রাঙ্গণে এসে বিজেপির র্যালির সঙ্গে মিশে যায়। দুই দলের এই মনোনয়ন পেশ উপলক্ষে এদিন কালিয়াগঞ্জ ব্লক অফিস প্রাঙ্গণে ব্যাপক পুলিশ মতায়েম করা হয়। এর পেছনে গত দুই দিন ধরে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ও বৃহস্পতিবার ইটাহার ও চোপড়ায় বিজেপির মিছিলে বন্দুকবাজদের তান্ডবের পর থেকেই আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল বিরোধী দলগুলির মধ্যে। আশঙ্কা করা হচ্ছিল বিজেপি ও সিপিএমের প্রার্থীদের উপরেও হামলা চালাতে পারে দুষ্কৃতী দল। কিন্তু এদিন কালিয়াগঞ্জ থানার আই.সি বিচিত্র বিকাশ রায়ের নেতৃত্বে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তর এলাকায় ব্যাপক কমব্যাট ফোর্স মোতায়েম করা হয়। হাসপাতাল রোড দিয়ে বিজেপি ও সিপিএমের মিছিল পৌঁছতেই সিপিএম ও বিজেপি প্রার্থী ও প্রস্তাবকদের নিরাপত্তা দিয়ে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে পৌঁছে দেয় পুলিশ। উভয় দল নিজেদের দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র তোলা ও জমা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন করে বলে খবর।
এবিষয়ে বিজেপি কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার পলক রুপক রায় জানান, রাজ্য জুড়ে শাসক দল যেভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপরে হামলা চালাচ্ছে। কারন একটায় তৃণমূল বুঝে গেছে তাদের পাশে জনগণ নেই। তাই তারা সমস্ত বিরোধী দলের প্রার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে মনোনয়ন তুলতে বাধা দিচ্ছে। তাই তাদের একটাই আসা ভরসা বন্ধুক, বোমাবাজি ও সন্ত্রাসের জোরে তাদের ক্ষমতায় আসতে হবে। ভারতীয় জনতা পার্টি সাধারণ মানুষের পাশে আছে এই কথা ভেবে এদিন বিজেপি কর্মীরা সংগবদ্ধ হয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়। সিপিএম কে যদি প্রার্থী দিতে হয় সেই কারণে তারা বিজেপির সাথে এসে তারাও মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে।
এদিকে এদিনের এই র্যালি নিয়ে বলতে গিয়ে সিপিএমের জোনাল সম্পাদক দেবব্রত সরকার জানান, তারা বিজেপির সাথে আসেননি। তবে ব্লকে ঢোকার মুখে হাসপাতাল মোড়ে বিজেপির র্যালির সঙ্গে তাদের র্যালি মিশে যায়। গত দুই দিন ধরে বিরোধী প্রার্থীরা আক্রান্ত হয়েছে। নমিনেশন জমা দিতে পারেনি। যার কারণে মানুষের মনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যার কারণে এদিন সকলে একত্রিত হয়ে এদিন নমিনেশন তোলা ও জমা দিতে এসেছে। তার কথায় ভোট যাকেই দিক প্রার্থীদের দাঁড়াতে দিবে না এটা অগণতান্ত্রিক, তাই সকলে এসেছে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/5HKp1jVTAyg